উল্লাপাড়া

উল্লাপাড়ায় বন্যার পানির দেখা না মেলায় দেশী মাছের বংশ বিস্তার বাঁধা গ্রস্থ

মোঃ আব্দুস ছাত্তার, উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ভাদ্র মাসেও স্বাভাবিক বন্যার পানির দেখা মেলেনি। নিম্নাঞ্চলে কিছুটা বন্যার পানির দেখা মিললেও উপজেলার অন্যান্য খাল-বিলে ও মাঠে-ঘাটে বন্যার পানির দেখা মেলেনি। এসব খাল-বিল বৃষ্টির পানিতে ভরে আছে । ঋতু অনুযায়ী আসার-শ্রাবণ মাস বর্ষাকাল। আর এই আষাঢ়-শ্রাবন মাসেই দেশীয় ছোট-বড় সব ধরনের মাছ বংশ বিস্তার করে থাকে। সময় মতো বন্যার পানি না আসায় ওই সব ধরনের মাছ বংশ বিস্তার করতে বাধা গ্রস্থ হয়েছে। যতোটুকু বংশ বিস্তার করতে পেরেছে তাও আবার- দারকি, বাদাই জাল, কারেন্ট জাল ও নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ শিকারিরা ছেকে ধরেছে। বর্ষার শেষ বেলায় ভাদ্র-আশ্বিন মাসে খাল-বিল ও মাঠ থেকে বন্যার পানি নেমে যাবার সময় জেলের জালে ব্যাপক পরিমানে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ধরা পরে। এ সময় জেলেরা তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে বিশাল বিশাল চাতাল বিছিয়ে তার উপর ছোট মাছ বিছিয়ে শুকায়ে শুঁটকি মাছ তৈরি করে। এ বছরে স্বাভাবিক বন্যা না হওয়ায় এবং নিষিদ্ধ জাল গুলো দিয়ে মাছ ধরায় আগামিতে মাছের অভাব এবং শুঁটকি মাছের উৎপাদন কম হওয়ার আশংকা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট জেলেরা ও গ্রামের মানুষেরা ধারনা পোষণ করছেন।

উল্লাপাড়া উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের সবগুলো মাঠ, খাল, বিল, নদী-নালা স্বাভাবিক বন্যার পানিতেই তলিয়ে যায়। একটানা ৩ মাস বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকে। এই তলিয়ে থাকা মাঠ, খাল, বিল ও নদী-নালা গুলোতে দেশীয় মাছ যেমন-পুটি , টেংরা, কৈ, চাপিলা, গোরকা, টাকি, সোল, বোয়াল, বাইম মাছসহ নানা দেশীয় মাছ। এসব মাছ বন্যার পানিতে ডিম পোনা ছেড়ে বংশ বিস্তার করে থাকে। আর এ সব মাছ বন্যার পানিতে তাড়াতাড়ি আকারেও বড় হয়।

এ বছর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের উধুনিয়া, মোহনপুর, বড় পাঙ্গাসী, বাঙ্গালা ইউনিয়নের প্রায় সব মাঠ, খাল, বিল, নদী-নালা সামান্যা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেলেও উপজেলার পূর্ণিমাগাতী, কয়ড়া, রামকৃষ্ণপুর, সলংগা, উল্লাপাড়া সদর, দুর্গানগর, হাটিকুমরুক, বড়হর, পঞ্চক্রোশী, সলপ ইউনিয়ানের মাঠ গুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করেনি। ওইসব ইউনিয়নের নীচু এলাকার বিভিন্ন মাঠ, খাল বিল, নদী-নালা বৃষ্টির পানিতে ভরে গেছে । এই সব ইউনিয়নে বন্যার পানি প্রবেশ না করায় দেশীয় মাছগুলো বংশ বিস্তারে বাধা প্রাপ্ত হয়েছে এবং তার উপর নিষিদ্ধ জাল দিয়ে ছোট মাছ ধরায় পানিতে মাছ কমে গেছে। বিভিন্ন মাঠ থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। মাঠ থেকে পানি নামার সময় জাইলার জালে যে পরিমান মাছ ধরার কথা তা আশানুরূপ ধরা পরছে না।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে বিনায়েকপুর, আফার, সাতবারিয়া, আলীগ্রাম, হাওড়া, কাশেম বিল, পাঙ্গাসী মাঠ, চক খাদুলী, ত্রিমোহনী ব্রীজের মাঠ, চাকসা, মোহনপুর, বর্ধনগাছা ও আরো বিভিন্ন এলাকার মাঠে বন্যার পানি নেই। এসব মাঠ স্বাভাবিক বন্যা হলেই পানিতে তলিয়ে থাকতো। বৃষ্টিতে যেটুকু পানি হয়েছিলো তাও আবার শুকিয়ে গেছে।

উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের রহিমপুরের মোঃ হাতেম আলী, বড় পাঙ্গাসীর মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, এবার স্বাভাবিক বন্যার পানি না হওয়ায় দেশীয় মাছের বংশ বৃদ্ধি ব্যাপকভাবে বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে । আবার কম বেশি পরিমাণ মাছ নীচু এলাকার বন্যার পানিতে ও উঁচু এলাকার বৃষ্টির পানিতে বংশ বিস্তার করেছিলো তাও আবার নিষিদ্ধ বিভিন্ন জাল দিয়ে জেলে ও গৃহস্থরা ছোট অবস্থায়ী ধরে গ্রামীন হাট বাজার গুলোতে বেচাকেনা করছেন। এ বছরে স্বাভাবিক বন্যা না হওয়ায় এবং নিষিদ্ধ জাল গুলো দিয়ে মাছ ধরায় আগামিতে মাছের অভাব এবং শুঁটকি মাছের উৎপাদন কম হওয়ার আশংকা দেখা দিতে পারে বলে তারা ধারনা পোষণ করছেন।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আতাউর রহমান বলেন, এবার স্বাভাবিক বন্যা না হওয়ায় দেশীয় মাছের বংশ বীস্তারে ব্যাপকহারে হৃাস পেয়েছে। তিনি দেশীয় মাছ কম পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছেন। তিনি বলেন উপজেলার নিম্নাঞ্চলের উধুনিয়া, মোহনপুর, বড় পাঙ্গাসী, বাঙ্গালা ইউনিয়ন এলাকায় বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা মাঠ, খাল বিলগুলোয় পোনামাছ ধরা বন্ধে তার বিভাগ থেকে বার বার জোরালো অভিযান চালানো হয়েছে।

মোঃ আব্দুস ছাত্তার
উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ

০১/০৯/২০২৬