সারাদেশসিরাজগঞ্জ

কবি মোহন রায়হানের ৭০ বছরপূর্তি উদযাপন

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, কবি ও সংগ্রামী মোহন রায়হানের ৭০ বছরপূর্তি উপলক্ষে আজ শনিবার জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন, শাহবাগ, ঢাকায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে কবির দীর্ঘ সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ও সংগ্রামী জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দেশের বিশিষ্ট কবি, লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শুভানুধ্যায়ীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের মাননীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আসাদ এমপি, ৭০ দশকের বিশিষ্ট কবি মতিন বৈরাগী, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাইদ খান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক,

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘মোহন রায়হান ৭০ বছর উদযাপন পরিষদ’-এর আহ্বায়ক, লেখক ও গবেষক ড. সলিমুল্লাহ খান।

একঝাঁক তরুণ সংগীতশিল্পীদের উপস্থাপনায় উদ্ভোদনী সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবি মোহন রায়হানের বিপ্লবী বর্ণাঢ্য জীবনের উপর নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘অগ্নিপথের কবি’ প্রদর্শিত হয়। কবি মোহন রায়হানের জন্মদিন উপলক্ষে সংবর্ধনা গ্রন্থ ও নির্বাচিত ১০০ কবিতা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনাব নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আমি কবি মোহন রায়হানের দীর্ঘায়ু কামনা করি। তার মত কবি এদেশের জন্য প্রয়োজন। তিনি আরও কবিতা লিখুক এবং দেশের সাহিত্যাঙ্গনে অবদান রাখুক এই কামনা করি।

বিশেষ অতিথি কবি মতিন বৈরাগী বলেন, কবি মোহন রায়হান কখনোই ক্ষমতালোভী নয়। তিনি চাইলেই হয়তো ক্ষমতা পেতে পারতেন কিন্তু সেটা না চেয়ে তিনি মানুষের চেতনার বিকাশে কাজ করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কমরেড সাইফুল হক বলেন, কবিরা না থাকলে এই পৃথিবী বাসযোগ্য হতোনা। কবি মোহন রায়হান আমাদের সমাজ বিনির্মাণের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।

বক্তারা বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক বিকাশ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে কবি মোহন রায়হানের ভূমিকা অনন্য। দীর্ঘ পথচলায় তিনি কবিতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পাশাপাশি স্বৈরাচার, সামরিক শাসন, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন। তার জীবন ও সৃষ্টিকর্মে দ্রোহ, প্রতিবাদ, প্রেম, মানবমুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

এ ছাড়াও আলোচনায় বক্তারা বলেন, মোহন রায়হান শুধু একজন কবি নন; তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনেরও একজন সক্রিয় সংগঠক। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ সম্পৃক্ততা রয়েছে। জাতীয় কবিতা পরিষদের দুইবারের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোহন রায়হান বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২৫ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে ছিল উদ্বোধনী সংগীত, ফুলেল শুভেচ্ছা, গুণীজনের বক্তব্য, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, সংবর্ধনা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, সংগীত, আবৃত্তি এবং কবি মোহন রায়হানের কবিতা অবলম্বনে বিশেষ কাব্য-নৃত্যনাট্য। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে কবির জীবন, সংগ্রাম, সাহিত্যকর্ম ও সাংস্কৃতিক অবদানের নানা দিক তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে কবি মোহন রায়হানের ৭০ বছরপূর্তি উদযাপন পরিণত হয় তার দীর্ঘ সংগ্রাম, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক অবদানের প্রতি এক সম্মিলিত শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে।

‘মোহন রায়হান ৭০ বছর উদযাপন পরিষদ’-এর আহ্বায়ক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, মোহন রায়হানের জীবন বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তার সৃজন ও সংগ্রামের মূল্যায়ন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তার জীবনাদর্শ ও সাহিত্যকর্ম পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।