রায়গঞ্জে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, ফুলজোড়ের দুই পাড়ে জনস্রোত, বিজয়ী আল-মদিনা
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বৈঠার ছন্দময় আঘাতে ফুলজোড় নদীর বুকে ছুটে চলেছে একের পর এক নৌকা। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস-উল্লাসে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ হাততালি দিয়ে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিয়েছেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন নৌকা বাইচের রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। এমন আনন্দঘন পরিবেশে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পানশী নৌকা বাইচ।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার চর তেলিজানা এলাকায় ফুলজোড় নদীর ব্রিজসংলগ্ন স্থানে এ নৌকা বাইচের আয়োজন করে চর তেলিজানা সেঞ্চুরি ক্লাব।
নৌকা বাইচকে ঘিরে দুপুরের পর থেকেই ফুলজোড় নদীর দুই পাড়ে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রতিযোগী নৌকাগুলো নদীতে নামার পর দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা। বৈঠার তালে তালে নৌকাগুলোর দ্রুতগতিতে ছুটে চলার দৃশ্য উপভোগ করেন শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা শেষে প্রথম স্থান অর্জন করে আল-মদিনা এক্সপ্রেস। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে হাড়ি ভাঙা এক্সপ্রেস এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে সেভেন স্টার।
নৌকা বাইচ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হক। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক এবং রায়গঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. একরামুল হক।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ আব্দুর রাজ্জাক জুয়েল ও ৬ নম্বর ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আবুল হাসেম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামছুল ইসলাম, রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের সদস্যসচিব মো. আব্দুস সালাম খান, ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
রায়গঞ্জ উপজেলা বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচে বিভিন্ন এলাকার একাধিক প্রতিযোগী নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা ঘিরে নদীর দুই পাড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।
আয়োজক কমিটির প্রধান ও চর তেলিজানা সেঞ্চুরি ক্লাবের সভাপতি মো. সুলতান মাহমুদ শুভ এবং উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, সেঞ্চুরি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব মো. আসাদুল্লাহর সার্বিক তত্ত্বাবধানে নৌকা বাইচটি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকেরা জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের সংস্কৃতি ধরে রাখতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও উৎসবের আবহ তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
মো. পারভেজ সরকার
রায়গঞ্জ প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ
০৯-০৮-২০২৬
